Discussion on Biosphere Reserve and National Park

Detailed Discussion on Biosphere Reserve and National Park

***

ভারতবর্ষে এখন রির্জাভড ফরেষ্ট এর সংখ্যা খুব কম। আসলে ব্রিটিশ শাসনে ভারতবর্ষে ঠিকঠাক কোনো বন আইন মানে Forest Act ছিল না । ব্রিটিশ শাসনে সব ধরণের জঙ্গলে যথেচ্ছ শিকার বা বন্যপ্রাণী হত্যা চলত। একদা নিরুপায় হয়েই ব্রিটিশরা 1927 সালে Indian Forest Act তৈরি করে সেই প্রথম Reserved Forest concept টা চালু হয়। এর আগে সব ছিল Protected Forest . স্বাধীনতার পরে ও ভারত সরকার এই Reserved forest তকমা টা রেখে দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো  যে Wildlife sanctuary গুলোকে কি Reserved forest বলে ?
Reserved forest থেকে upgrade হয়ে Wildlife sanctuary তারপর National Park বা Tiger reserve বা বায়োস্পিয়ার রির্জাভ এ উন্নত হয়। আসলে এই concept গুলো এত আলাদা যে সব লিখে বোঝানো কঠিন। কোনোদিন যদি আমার সাথে কারো কাকতালীয় ভাবে জঙ্গলে দেখা হয় তখন আরো ভালভাবে clear করবার চেষ্টা করব। Reserved forest - wildlife sanctuary - Tiger reserve থেকে National park এ upgrade হবার সব থেকে বড় উদাহরণ Sariska .
সরিস্কার জঙ্গলে কেউ যায় না কিন্তু ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এর ক্ষেত্রে সরিস্কার বিশাল অবদান আছে ।  আগেই বলেছি যে রির্জাভড ফরেস্ট তৈরি হবার আগে যা ছিল সবই protected forest . ভারতবর্ষের সব জঙ্গলে বা অরণ্য ভেতর একসময় অনেক ছোটো ছোটো গ্রামে জনবসতি ছিল । মূলত আদিবাসী শ্রেণীর লোকজন যাদের আমরা Tribal বলে অভিহিত করি তারাই বসবাস করতেন এবং মূলত বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজটা তারাই করতেন । জঙ্গল বা অরণ্য সংলগ্ন জমিতে গবাদি পশু চড়ানো, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ , মাছধরা এগুলো তো ছিল এছাড়া চোরাগোপ্তা বন্যপ্রাণী শিকার এগুলো ও চলত। যেহেতু স্বাধীনতার আগে এই সব নিয়ে কড়া আইন ছিল না তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বা নির্বিচারে হত্যা নিয়মিত কার্যকলাপে পরিণত হয়েছিল। 2006 সালে Forest Right Act এ বনের আদি বাসিন্দাদের বনের ওপর অধিকার অনেক জোরালো হয়েছে। ইংরেজ রা দেখল যে এরকম ভাবে চললে তো নিজেদের অসুবিধা । বড়লাট ছোটোলাট এরা তো বনে গেলে আর শিকার করতে পারবে না। বেশ এই ভাবে কিছু জায়গা protected area বা PA notified করে দিল । এখন আর এই PA এর খুব একটা গুরত্ব নেই কারণ wildlife protection act 1972 চালু হয়ে গেছে।
 সুন্দরবন নিয়ে জানতে গেলে Biosphere Reserve সর্ম্পকে একটু ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই Biosphere Reserve ব্যাপারটা বিশাল এবং অল্প কথায় বোঝানো অসম্ভব। আসলে ভারতবর্ষে অনেক জঙ্গল আছে যারা একে অপরের সাথে সর্ম্পকিত এবং অনেক জঙ্গল আছে যেগুলো coastal ecosystem এ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এবং এই জঙ্গল গুলো জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্য হওয়া স্বত্তেও human activities বা অনান্য কাজকর্ম বন্ধ করা যায় নি। অনেক সময় এই জঙ্গল গুলো কে ভিত্তি করে মানুষের জীবনযাত্রার মান ঠিক হয়। আর ও ভাল ভাবে বলতে গেলে অনেক সময় এই জঙ্গল গুলো বাঁচাবার জন্য অর্থাৎ sustainable ecosystem oriented and coastal ecological balance ঠিক রাখবার জন্য এই Biosphere Reserve এর গুরুত্ব অনেক খানি । বিষয় টা কঠিন হয়ে গেল ? আর একটু সহজ করে দিই - আপনারা সবাই নীলগিরি বায়োস্পিয়ার রির্জাভ এর নাম শুনেছেন। নীলগিরি পর্বতমালা পশ্ঢিমঘাট পর্বতমালার তামিলনাড়ুর পশ্চিম প্রান্তে অবস্হিত হলেও পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাটের রেঞ্জ কে বিভক্ত করেছে। Eastern ghat এবং westernghat এই দুই রেঞ্জের প্রাণী বৈচিত্র্যের পাশাপাশি নীলগিরির চিরহরিৎ ও তৃণভূমি অঞ্চল ই গঠন করেছে শোলা বাস্তুতন্ত্র। আমি ভ্রমণ ম্যাগাজিন এ পশ্চিমঘাট এর পাখ পাখালি (Read Online Flip book / Download) লিখবার সময় শোলা ইকোসিস্টেম নিয়ে লিখেছিলাম । এই Shola ecosystem এর উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের অন্যতম নীলচে বেগুনী ফুলের উদ্ভিদ "নীল কুরিঞ্জি"। এই কুরিঞ্জি ফুল প্রতি বারো বছর অন্তর পুরো পর্বতমালাকে নীলচে বেগুনি রঙের গালিচায় ঢেকে রাখে । সেই থেকেই নাম নীলগিরি পর্বতমালা বা বা Blue mountain।এই নীলগিরি বায়োস্পিয়ার এর আওতায় মধ্যে -
1) Bandipur National Park
2) Mudumalai Tiger Reserve and national park
3) Silent valley National Park
4) Nagerhole national park
5) Wayanad Wildlife sanctuary
6) Mukurthi national park ...অবস্হিত। অর্থাৎ একটা বায়োস্পিয়ার রির্জাভড এর মধ্যে এক বা একাধিক জাতীয় উদ্যান / অভয়ারণ্য / রির্জাভড ফরেস্ট থাকতে পারে । তাহলেই বোঝা যাচ্ছে যে বায়োস্পিয়ার রির্জাভের এলাকা কত বড়। আর একটা প্রশ্ন যদি National park বা Wildlife sanctuary থাকে এবং তার আইন যদি কঠিন হয় তাহলে বায়োস্পিয়ার রির্জাভের দরকার কি ? বায়োস্পিয়ার রির্জাভের দরকার কারণ এই বিশাল জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গার বৈচিত্র আলাদা। যেমন সিকিম নেপালের মধ্য সংযোগকারি কাঞ্চনজঙ্ঘা বায়োস্পিয়ার রির্জাভ। আমরা যে ওখরে বার্সে যাই আবার জোংরি গোয়েচলা যাই পুরোটাই পরে কাঞ্চনজঙ্ঘা বায়োস্পিয়ার রির্জাভের অধীনে। মুদুমালাই এর কথাই ধরা যাক । আমিই আগেই বলেছি নীলগিরি বায়োস্পিয়ার এর গুরত্বপূর্ণ অংশ মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান। মুদুমালাই এর উত্তরে Bandipur and Nagerhole জাতীয় উদ্যান, পশ্চিমে Waynad wild life sanctuary , দক্ষিণে Mukurti National park এবং Silent valley national park এবং পুর্বদিকে Sigaur pleatu . এই যে এতগুলো জাতীয় উদ্যানের মধ্যে সংযোগ রক্ষা শুধু নয় এই জাতীয় উদ্যানের আশেপাশে বসবাস কারী মানুষ ও তাদের জীবন ও জীবিকার সাথে জঙ্গলের প্রাণী ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের এই বিশাল ইকোসিস্টেম কে সংযোগ করবার রক্ষা করবার জন্য বায়োস্পিয়ার রির্জাভ। অর্থাৎ প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যেমন ধরুন সুন্দরবন। এখানে মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সমতা রেখে জীবন অতিবাহিত করতে হয় । বায়োস্পিয়ার রির্জাভ এর মূল উদ্দেশ্য প্রকৃতি, বন্যপ্রাণ ও মানুষের মধ্যে সংযোগ করা যাতে পরস্পর সমৃদ্ধ হয় । 
এক কথায় বলতে গেলে " Conservation of biodiversity with sustainable use বা Innovative way of interaction between Man and nature ."। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য পরে " Protected Area" এর আন্ডারে। এই Protected Area ঘোষণা হয় Wildlife (protection) act 1972 অনুযায়ী। কিন্তু বায়োস্পিয়ার রির্জাভের পুরো concept টাই Unesco এর Man and Biosphere ( MAB) প্রোগামের কনসেপ্ট অনুযায়ী। জাতীয় উদ্যানে যেমন কোনো ধরণের ইকোনমিক অ্যক্টিভিটি চলে না কিন্তু বায়োস্পিয়ার রির্জাভের অধীনে লিমিটেড ইকোনমিক অ্যক্টিভিটি চলতে পারে। যদি ও IUCN ( International conservation of nature) এর পরামর্শে Unesco 1971 সালে এই MAB program চালু করলেও ভারতে চালু হয় 1986 সালে। ভারতের কিছু বায়োস্পিয়ার রির্জাভ হল.....
1) Nanda devi (utarakhand)
2) Nokrek (meghalaya)
3) Nilgiri ( Tamilnadu karnatak kerala)
4) sunderban ( wb & bangladesh)
এরকম আরো ও কিছু আছে । আমি ওপরে উল্লিখিত সবকটা বায়োস্পিয়ার রির্জাভে গেছি। পরবর্তী পর্বগুলোতে আলোচনা করব জঙ্গল অনুযায়ী কিছু বন্যপ্রাণ নিয়ে ।

Comments